বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। ডালাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই রাত ১টায় শুরু হবে।
দুই দলের লড়াই শুধু ফাইনালের টিকিটের জন্য নয়, বরং একাধিক ঐতিহাসিক অর্জনের হাতছানিও রয়েছে তাদের সামনে।
২০ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি
বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথম ও একমাত্র দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে। সে ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। স্পেন শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে ফ্রাঙ্ক রিবেরি, পাত্রিক ভিয়েরা ও জিনেদিন জিদানের গোলে ম্যাচ জিতে নেয় ফরাসিরা।
সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের আধিপত্য
দুই দল এখন পর্যন্ত ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৮টি, ফ্রান্স ১৩টি এবং ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
সবশেষ ১০ দেখায় স্পেনের জয় ৭টি, ড্র ১টি এবং হার মাত্র ২টি। সর্বশেষ দুই লড়াইয়েই জয় পেয়েছে স্প্যানিশরা। ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে তারা ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরে শিরোপাও জেতে। এরপর ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় স্পেন।
বেলজিয়ামকে হারানোর পর স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল বলেন, "হয় ফ্রান্স টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। আমরা মোটেও ভয় পাচ্ছি না।"
অপরাজেয় স্পেন
স্পেন টানা ৩৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত। এই সময়ে তারা ২৭টি জয় ও ৯টি ড্র করেছে। সর্বশেষ হার ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেন ২৭ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে হারের পর বড় আসরে টানা ১৪ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে তারা।
দুর্ভেদ্য রক্ষণ
চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একটি গোল খাওয়ার আগে স্পেন টানা ৬৪৯ মিনিট গোল হজম করেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচ ক্লিন শিট রাখা প্রথম দলও স্পেন।
সেমিফাইনালে স্পেনের রেকর্ড
বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে খেলছে স্পেন। প্রথমবার ২০১০ সালে উঠে শিরোপা জিতেছিল তারা।
বড় টুর্নামেন্টে সাতটি সেমিফাইনালের মধ্যে মাত্র একবার বিদায় নিয়েছে স্প্যানিশরা। সেটি ছিল ২০২০ ইউরোয় ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেকারে।
বদলি নেমেই ম্যাচ জেতানো মেরিনো
মিকেল মেরিনো চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল—দুই ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের ভিন্ন দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি।
ইতিহাস গড়ার সুযোগ
স্পেন জিতলে ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে বড় টুর্নামেন্টে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বে।
অন্যদিকে ফ্রান্স জয় পেলে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জেতা দ্বিতীয় ইউরোপীয় দল হবে। পাশাপাশি জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কীর্তিও গড়বে তারা।
এমবাপের নজর আরেক রেকর্ডে
ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে তিনি আসরে মোট ৮ গোল করেছেন এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আছেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবাপের মোট গোল এখন ২০, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার চেয়ে একটি বেশি গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন মেসি।
এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপের ১২ গোলই সর্বোচ্চ। তবে আগের দুটি সেমিফাইনালে তিনি গোলের দেখা পাননি। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ তার সামনে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









