বরিশালে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদা বেগম (২০) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম এস এম শরিয়ত উল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) আবদুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জাহিদা বেগম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ‘নোয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প’ এর এইচ ব্লকের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ মে গভীর রাতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী ‘মামুন পরিবহন’ এর একটি নৈশকোচ বরিশাল নগরীর কলসগ্রাম এলাকা অতিক্রম করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বাসটিতে বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন বাসের যাত্রী রোহিঙ্গা তরুণী জাহিদা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে নারী পুলিশের সহায়তায় তাকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫টি প্যাকেটে মোট ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন নাঈম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান একই থানার এসআই ছানোয়ার হোসেন। তিনি দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে গত ২৩ জুন আদালতে জাহিদা বেগমকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে জাহিদার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারক আজ এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









