কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কয়েকশ বিঘা জমির পটল ক্ষেত পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল হারিয়ে চরাঞ্চলের শত শত কৃষক এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চর সাঁড়াশিয়া, চর নাগদাহ, চর পেচাকোলা, চর পাইখন্দ, চর নাকালিয়া, চর সাফুল্লা এবং হাটাইল-আঁড়ালিয়া চরের বিস্তীর্ণ মাঠে বৃষ্টির পানি জমে পটলের গাছ লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে।
চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক কাদের প্রামাণিক জানান, তাঁর দুই বিঘা জমির পটল গাছ বৃষ্টির পানিতে মরে গেছে। আরেক কৃষক খলিল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,
"ধারদেনা করে তিন বিঘা জমিতে পটল আবাদ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল। ভেবেছিলাম ফসল বিক্রি করে দেনা শোধ করব এবং সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাব। কিন্তু অসময়ের ভারী বর্ষণে সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।"
চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, তাঁর চার বিঘা জমির পটল ক্ষেত পানিতে বিনষ্ট হয়েছে। এখন রোদ হলেও মরে যাওয়া গাছ আর বেঁচে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে, চরের সমাজসেবক আ. রহমান ঠান্টু জানান, টানা বর্ষণে সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে সবজির আমদানি কমে গেছে, যার ফলে বাজারে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
তবে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের অধিকাংশ পটল কৃষকরা ভারী বর্ষণের আগেই ঘরে তুলেছেন। অল্প কিছু জমির পটল গাছ পানিতে বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হওয়ার খবর তিনিও শুনেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং কয়েকদিন রোদ হলে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









