শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে ক্ষোভ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের আচরণের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন তারা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সরকারি বরিশাল কলেজের পরীক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। শিক্ষার্থীদের সম্মান ক্ষুণ্ন করায় শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী রাসেল মাহমুদের অভিযোগ, চলতি এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যার অনেক বিষয় পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান।
সরকারি বরিশাল কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, ঢাকায় আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তারা। তিনি জানান, আন্দোলনের একপর্যায়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তাদের জানানো হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোরতা থাকলেও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয় এবং অযৌক্তিক কঠোরতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।”
এদিকে, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষা বোর্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









