নদীর তীব্র স্রোত এবং বালুবাহী ভারী নৌযানের বেপরোয়া ধাক্কায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরে অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি। যেকোনো মুহূর্তে সরকারি এই স্থাপনাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ডাকবাংলোর সীমানা প্রাচির ভেঙে গেছে এবং মূল ভবনের একাধিক স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোয়াইনঘাট নদী দিয়ে প্রতিদিন শত শত বড় বালুবাহী নৌযান চলাচল করে। এসব নৌযানের সৃষ্ট কৃত্রিম তীব্র ঢেউ এবং নদীর স্বাভাবিক স্রোতের কারণেই মূলত ডাকবাংলোটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে বালু নিতে আসা নৌকাগুলো নোঙর করার জন্য জেলা পরিষদের প্রাচিরটি জেটি হিসেবে ব্যবহার করছে। চালকেরা চলন্ত নৌকা সরাসরি দেয়ালের গায়ে ধাক্কা দিয়ে থামাচ্ছেন (স্টপেজ করছেন)। এতে দেয়ালের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সাথে বর্ষায় নদীতে পানি বাড়ার কারণে তীব্র স্রোতে দেয়ালের নিচের মাটি দ্রুত সরে যাচ্ছে, যা ভাঙন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ জানান, ডাকবাংলোটি রক্ষায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ভাঙনের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে প্রকৌশল শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে একটি টেকসই গাইড ওয়াল বা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় অবৈধভাবে নৌকা নোঙর করা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘‘গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোটি নদী ভাঙনের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সুরক্ষা দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বর্ষার তীব্র স্রোতের পাশাপাশি বালুবাহী ভারী নৌযানগুলোর বেপরোয়া চলাচল ও ধাক্কার কারণে এই ভাঙন প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি রক্ষায় আমরা দ্রুতই সরেজমিনে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করব এবং বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’
জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। ভাঙন এবং ফাটলের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। বালুবাহী নৌযানগুলো যেভাবে দেয়ালের ক্ষতি করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নদী তীরে যত্রতত্র ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নৌকা থামানো এবং দেয়ালের ক্ষতি করা বন্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। একই সাথে ভবনটির স্থায়ী সুরক্ষায় জেলা পরিষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









