গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় যানজট কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে মাওনা ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের পর থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রতিদিনের হাজার হাজার যাত্রী। বিকল্প হিসেবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক, পোশাক কারখানার কর্মী, শিক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও অফিসগামী যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওনা চৌরাস্তা, মাস্টারবাড়ি, এমসি বাজার, জৈনা বাজার, ভবানীপুর, কাওরাইদসহ বিভিন্ন রুটে আগে নিয়মিত মিনিবাস চলাচল করলেও বর্তমানে সেই সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সুযোগ বুঝে অনেক চালক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তারও বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিবহন সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও যানবাহন পাওয়া যায় না। আর গাড়ি পেলেও অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে চালকরা যাত্রী নিতে চান না। এতে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া ও বাড়ি ফেরা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন বলেন, “মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত আগে মিনিবাসে ২০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন সিএনজিতে ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।”
যাত্রী জাকির মিয়া বলেন, “এমসি বাজারে যেতে আগে ১০ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন ২০ টাকা চাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে অনেক সময় ভ্যানে বা হেঁটে যেতে হয়।”
মরজিনা বেগম বলেন, “মাওনা থেকে মাস্টারবাড়ি যেতে আগে ১০ টাকা লাগত। এখন ২০ টাকা দিতে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বেড়ে গেছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা বড় চাপ।”
একজন পোশাক কারখানার শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিদিন যাতায়াতে অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। মাস শেষে এটি বড় অঙ্কের টাকায় দাঁড়ায়, যা আমাদের মতো শ্রমিকদের জন্য অনেক কষ্টের।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, “পরিবহন সংকটের কারণে অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে ছোট ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কিছুটা কমে গেছে।”
জানা গেছে, মাওনা চৌরাস্তা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্যতম ব্যস্ত একটি অংশ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও দূরপাল্লার যাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে মিনিবাস চলাচল বন্ধ করা হলেও বিকল্প গণপরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, “ফ্লাইওভারের নিচে যানজট কমানোর স্বার্থে মিনিবাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীরা সিএনজি ও অটোরিকশায় চলাচল করছেন। কেউ যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু মিনিবাস বন্ধ করলেই যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যাত্রীসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিকল্প গণপরিবহনের ব্যবস্থা চালু, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করলে যানজট কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে লাঘব হবে বলে মনে করছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









