পটুয়াখালীর দশমিনায় চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থাণে নিহত শহীদ জিহাদ, বাবলু, জাকিরসহ সকল জুলাই শহীদদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, মোনাজাত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগারের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগার পরিচালনা পরিষদের সদস্য গাজী সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. শাহ আলম শানু, দশমিনা থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. ছগির হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বাশার, শহীদ জিহাদের বড় ভাই মো. জিন্নাত মোল্লা, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, শহীদ জিহাদের বন্ধুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই শহীদরা শুধু কয়েকটি নাম নন, তারা একটি স্বাধীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রতীক। তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যে রক্তের বিনিময়ে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে, সেই আত্মদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের শহীদরা দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে উচ্চারিত হবে জুলাইয়ের শহীদদের নাম।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের সম্মান, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. শাহ আলম শানু বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০০৯ সালের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ জিহাদ আমাদের গর্ব ও প্রেরণার উৎস। দেশের জন্য তার আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। মহান আল্লাহ যেন শহীদ জিহাদসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত দান করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।”
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা আবু বক্কর দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় শহীদদের রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









