পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বিবি আয়েশা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সাত্তারকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলার ঠাকুরের হাট এলাকায় ওই বিদ্যালয় সামনের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ও ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বিবি আয়েশা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এসময বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা। শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন শেষ হয়। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে ব্র্যাকের আয়োজিত একটি সভা শেষে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছা. কুলছুম বেগমের স্বামী মো. জামাল বয়াতী (৩৮) ও ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সাত্তার (৫৬)-এর মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে।
মাওলানা আব্দুস সাত্তারের অভিযোগ, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মো. জামাল বেপারী তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মাওলানা আব্দুস সাত্তার দশমিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জামাল বেপারী বলেন, তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলেও মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, দুইজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলেও তাঁর সামনে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এবিষয় এডহক কমিটির সভাপতি মোসাঃ কুলছুম বেগম জানান, গতকাল আমি অসুস্থ ছিলাম তাই যথাযথ সময় আসতে পারেনি। আমার স্বামীর সাথে ধর্মীয় শিক্ষক সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে নাকি। কিন্তু এতে কোন মারামারি ঘটনা ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
অভিযুক্ত জামাল ব্যাপারে জানান, আমার স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের এড হক কমিটির সভাপতি গতকালকে একটি মিটিং ছিল,আমি আগে কি বিদ্যালয়ে লাইব্রেরীতে বসার পরে ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল সাত্তার মিয়া আর আমার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। কিন্তু তার সাথে কোন আমার মারামারি হয়নি। আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ আতিকুল ইসলাম জানান,শিক্ষকের অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদ হাসান মৃধা জানান,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরো বলেন, ওসিকে ফৌজদারি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









