দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র আবারও উৎপাদনে ফিরছে। প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ শেষ হওয়ায় এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে নতুন করে দেশীয় গ্যাস যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সফলভাবে মেরামত করা হয়েছে। ফলে গ্যাসক্ষেত্রটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে এবং প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে বাপেক্স প্রত্যাশা করছে।’’
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে বাপেক্সের পাঁচটি রিগ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে কাজ করছে। পাশাপাশি আরও দুটি রিগ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন রিগ যুক্ত হলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, ‘‘জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে দেশব্যাপী ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও মেরামতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কূপগুলোর কাজ শেষ হলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়বে।’’
সংশ্লিষ্টদের মতে, রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রূপগঞ্জের এই পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র আবারও দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









