ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর 'খ' ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অফিসে বসে টাকা গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম কর্তৃক রোববার রাতেই এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, "সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোয়ালমারী, ফরিদপুর এর ২৬/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখের ৩১.১২.২৯১৮.০১৩.০০.০০১.২৬-৬৭৮ নং স্মারক মোতাবেক সাতৈর-খ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) (ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে একই বিধিমালার ১২ (১) ধারা মোতাবেক উক্ত কর্মচারীকে ২৬/০৭/২০২৬ তারিখ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বিধি মোতাবেক তিনি সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন।"
এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে প্রায় এক মিনিট তিন সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইমরান শেখ অফিসের চেয়ারে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে তা গুনে নিচ্ছেন।
ভিডিওতে তাকে মন্তব্য করতে শোনা যায়, “উনিও ৪০তম বিসিএস, আমিও ৪০তম বিসিএস। উনার কপাল ভালো, উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন-ক্যাডার হয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান শেখ দাবি করেন, এটি ঘুষের টাকা নয়, ব্যক্তিগতভাবে ধার দেওয়া টাকা ফেরত নেওয়ার সময়ের ভিডিও। তিনি বলেন, “অনেকেই আমার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত দেন। ভিডিওটি এর বছর আগের। ওই ভিডিও দেখিয়ে আমাকে এর আগেও অনেকে অনেকবার ব্ল্যাকমেইল করেছে। মোবাইলে আজকেও (রোববার) আমার নিকট একজন ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করেছে। আমি টাকা না দেয়ায় ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে ভাইরাল করা হয়েছে।”
বোয়ালমারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে রোববার রাতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩ (খ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে এবং একই বিধিমালার ১২ (১) ধারা মোতাবেক ইমরান শেখকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান রোববার রাতে বলেন, “ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আনা হয়। জেলা প্রশাসক ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ এবং তার প্রিভিয়াস হিস্টোরি দেখে আমাদের কাছে সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে। সরকারি যে বিধি আছে, সেই বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আর অফিস করতে পারবেন না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









