বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইমাম, কাজী, পুরোহিত ও পাদ্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ কর্মশালা। আয়োজকরা বলছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করা গেলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে করণীয়’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে ‘শিশুদের জন্য কর্মসূচি’। এতে সহযোগিতা করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এবং বাস্তবায়নে সহায়তা করে সেইন্ট-বাংলাদেশ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল।
স্বাগত বক্তব্য ও কর্মশালার মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন সেইন্ট-বাংলাদেশের ‘শিশুদের জন্য কর্মসূচি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী ইসতেআখ উল আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ।
কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ইমাম, কাজী, পুরোহিত ও পাদ্রীরা বাল্যবিবাহের সামাজিক, ধর্মীয় ও আইনি দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা বলেন, ‘‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজের সমন্বিত উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’’
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, ‘‘বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিবাহ নিবন্ধন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমাম, কাজী এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তাহলে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রশাসনের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় সহযোগিতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই বাকেরগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’’
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









