বরিশালের বাকেরগঞ্জে গ্রাম পুলিশ দুলাল চৌকিদারের বিরুদ্ধে দুধল ইউনিয়নের দুধল গ্রামের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত দুই দিন ধরে এ ঘটনা ঘিরে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলছে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্থানীয় বিএনপি একাংশ নেতাকর্মীসহ স্থানীয় অনেকেই যুবদলের আহ্বায়ক বাহাদুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যার পর গ্রাম পুলিশ দুলাল চৌকিদার ১২ বছর বয়সি শিশুটিকে সড়কের পাশ থেকে নির্জন স্থানে নিয়ে বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ সময় তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হাওলাদার ও যুবদলের আহ্বায়ক বাহাদুর গ্রাম পুলিশ দুলালকে রক্ষা করার জন্য সালিশ মীমাংসার আয়োজনও করেছিল সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে। পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হলে সালিশ মীমাংসা বন্ধ হয়ে যায়। অপরাধীকে রক্ষা করতে যুবদল নেতার ভূমিকার তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বিক্ষুব্ধরা নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্তের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে তারা আরও অভিযোগ করেন, দুধল ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. খালেকুজ্জামান বাহাদুর অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে।
এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্থানীয় বিএনপি একাংশ নেতাকর্মীসহ স্থানীয় অনেকেই যুবদলের আহ্বায়ক বাহাদুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা আরো ছড়িয়ে পড়েছে।
অপরদিকে যুবদলের আহ্বায়ক মো. খালেকুজ্জামান বাহাদুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রচারের অভিযোগ এনে তার অনুসারী, বিএনপি নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ মঙ্গলবার সকালে দুধল গ্রামের বাধের হাট বাজারে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এ সময় তারা দাবি করেন, যুবদলের আহ্বায়ক মো. খালেকুজ্জামান বাহাদুরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বলাৎকার ঘটনায় তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চলছে। তারা আরও দাবি করেন ঘটনার দিন যুবদল নেতা বাহাদুর এলাকায় ছিলেন না। এমনকি এই ঘটনার সাথে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নয়।
বলাৎকারের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ দুলাল চৌকিদার আত্মগোপনে রয়েছে।
এই বিষয়ে যুবদলের আহ্বায়ক মো. খালেকুজ্জামান বাহাদুর বলেন, ‘‘বলাৎকার একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই ঘটনার সাথে যে জড়িত থাকুক না কেন সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।’’
এ সময় তিনি আরো দাবি করেন, বিএনপির একজন সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার দিন তিনি এলাকায় ছিলেন না। তিনি কাউকে পালিয়ে যেতেও সহযোগিতা করেননি। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অপপ্রচার বন্ধ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
স্থানীয়রা মনে করেন শিশু বলাৎকার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত সত্য ঘটনা হয়তো আড়াল হয়ে যেতে পারে।
এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ‘‘গ্রাম পুলিশ দুলাল চৌকিদার তার উপর হামলা ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বলাৎকারের ঘটনা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।’’
তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং গুজব বা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









