পড়াশোনা শেষ করে তথাকথিত চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কামিল পাস করা এক উদ্যোক্তী নারী শারমিন আক্তার। শত বাধা, পারিবারিক ব্যস্ততা এবং দুই কন্যাসন্তানের দায়িত্ব সামলে তিনি আজ এলাকার একজন সফল ফাস্টফুড ব্যবসায়ী।
উপজেলার সুবিদখালী এলাকার জনপ্রিয় ‘কলেজ কর্নার ফাস্টফুড’-এর সফলতার মূল কারিগর এই নারী। তার এই অদম্য যাত্রা বর্তমান প্রজন্মের বেকারত্ব দূরীকরণ ও নারী ক্ষমতায়নে এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
উদ্যোক্তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি (কামিল) অর্জনের পর অলস সময় পার না করে শারমিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন এই ফাস্টফুড ও কেক তৈরির প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে মানসম্মত ও তাজা খাবারের সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে।
সংসারের নিখুঁত পরিচালনার পাশাপাশি শারমিন প্রতিদিন নিজ হাতে ৩০টিরও বেশি ধরনের সুস্বাদু ফাস্টফুড এবং আকর্ষণীয় কাস্টমাইজড জন্মদিনের কেক তৈরি করেন। একই সঙ্গে পুরো রান্নাঘরের কর্মযজ্ঞও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলান। গ্রাহকসেবা আরও গতিশীল করতে দোকানের সামনের কার্যক্রম তদারকির জন্য রাখা হয়েছে একজন নারী ব্যবস্থাপক।
এই সাফল্যের পথচলা একাই সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে শারমিনের স্বামী রাব্বি মল্লিক জানান, ছোট সন্তানদের লালন-পালন থেকে শুরু করে প্রতিটি পদক্ষেপে মা ও শাশুড়ির অকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছেন শারমিন। পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না হলে এই চ্যালেঞ্জিং পথ পাড়ি দেওয়া কঠিন হতো।
খাবারের গুণগত মানের বিষয়ে এই উদ্যোক্তা দম্পতি আপসহীন। তাদের মূল নীতি—পরিবারে নিজেরা যা আস্থার সঙ্গে খান, ক্রেতাদের ঠিক সেই মানসম্মত ও তাজা খাবারই পরিবেশন করা। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে তৈরি প্রতিটি আইটেমের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও সততা। ব্যবসার উদ্দেশ্য কেবল মুনাফা অর্জন নয়, বরং মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা জয় করা। কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক তা সংশোধন করে গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।
বর্তমান সময়ে যখন হাজারো তরুণ-তরুণী কেবল চাকরির আশায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন, তখন শারমিন আক্তারের এই গল্প প্রমাণ করে—দৃঢ় মনোবল, পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতা থাকলে নিজের ভাগ্য নিজেই গড়া সম্ভব।
ভবিষ্যতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা আরও প্রসারিত করতে এবং মানুষের সেবা করে যেতে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন এই উদ্যোক্তা দম্পতি। তরুণ প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার লড়াইয়ে শারমিনের এই গল্পটি হতে পারে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









