ফরিদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা'কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একইভাবে সৎ মাকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমানের রহমত মোল্যার ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বিকাল ৫ টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
নিহত নারী ওই এলাকার মৃত শেখ আকবরের স্ত্রী সামেলা বেগম (৬০)। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। এর মধ্যে ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে এ হত্যাকান্ডের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ছেলে রাহিম শেখ মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যে তার মায়ের সাথে ঝগড়া হতো এবং কয়েকদিন পূর্বেও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করা হয়। এর জের ধরে আজ দুপুর পৌনে ১ টার দিকে বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যরা না থাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাকে কোপাতে থাকে। এতে তার মাথার থেঁতলে মগজ বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে নিহত হয়। পরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় প্রতিবেশীরা এবং তারা পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২০১৬ সালে সৎ মাকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে সে। ওই ঘটনায় প্রায় ৬ বছর কারাগারে ছিলেন। পরে তার বাবা জামিনে বের করে আনেন। এরপরও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে সে। এছাড়া তার থাকার ঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের মেয়ে কাকুলী আক্তার বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সাথে খাওয়া-দাওয়া করে কাজে চলে যাই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হতো। আমি যখন বেরিয়ে যাই তখন ওই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। দুপুরে মাকে মেরে ফেলছে শুনে বাড়িতে ছুটে আসি।”
ঘটনাটি নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি আপন ছেলে তার মাকে কোনো কিছু দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাত করে পালিয়ে গিয়েছে এবং ঘটনাস্থলে এসে আমরা লাশ দেখতে পাই। প্রায় ১০ বছর আগেও তার সৎ মাকে হত্যা করে ৬ বছর কারাগারে ছিল। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছে। এছাড়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছে এবং তার থাকার ঘরেও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জাতীয় ফুয়েল পাওয়া গিয়েছে, সেটিকে আমরা আলামত হিসেবে জব্দ করেছি। এছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









