জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম দাবি করেছেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জে তাদের গাড়িবহরে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত গাড়ির ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে দুপুরে গোলাপগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘হামলায় গাড়ির বিভিন্ন স্থানে ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং পেছনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। আরেকটি ইট ভেতরে ঢুকলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত।’’
সারজিস আলম বলেন, ‘‘এই হামলার দায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এড়াতে পারেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রদলকে যদি সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সে বিষয়ে তারেক রহমানের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমান স্থানীয় বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তার অভিযোগ, তারেক রহমান এবং স্থানীয় বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ ধরনের হামলা চালাতে পারতেন না।
সারজিস আরও দাবি করেন, কর্মসূচি শেষে পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় দুপুরের খাবার খেতে গেলে রড ও চাপাতি নিয়ে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। তাদের গাড়িতেও রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী প্রতিপক্ষের চোখ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি হবিগঞ্জের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন।
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিএনপি যদি আরেকটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে এবং অন্য রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করতে বাধা দেয়, তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না।’’ তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার সরকারের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা ভাবিনি ছাত্রদলকে এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করা হবে। জানলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েই চলাফেরা করতাম। পুলিশও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখেছে। এই পুলিশ জনগণের নয়, তারেক রহমানের নির্দেশে কাজ করছে এবং আমাদের দমনে স্বৈরাচারী পথ বেছে নিয়েছে।’’
এর আগে, দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই আন্দোলনের সাত শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গোলাপগঞ্জ থেকে রওনা দেওয়ার পর একদল দুর্বৃত্ত বহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাঁচমাইল এলাকায় আরেকদফা তাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কেউ আহত হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









