শিল্পনগরী রূপগঞ্জ এবং আগামীর পরিকল্পিত নগরী পূর্বাচলের সিংহভাগ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন। ঢাকার সন্নিকটে হওয়ায় ভৌগোলিক কারণেও এ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। আসনটিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি তৎপরতা বেড়েছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর একাধিক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় নামলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বলছে—ভোটের মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার মধ্যেই। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু কার্যত দিপুকে ঘিরে আবর্তিত।
জানা গেছে, দিপু ভূঁইয়া রূপগঞ্জের প্রাচীন ও প্রভাবশালী মুড়াপাড়া ভূঁইয়া পরিবারের উত্তরসূরি। তার চাচা সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাবা মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার দিপুকে এলাকায় আলাদা পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দিপু ভূঁইয়া। কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছাড়াই দীর্ঘসময় মানুষের পাশে ছিলেন। রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দশ দলীয় জোটের সমর্থন এবং দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভর করে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াত নেতাকর্মীদের মতে, ধর্মভিত্তিক আদর্শিক ভোটব্যাংকই তাদের প্রধান শক্তি।
সূত্র আরো জানায়, এ আসনে শুরুতে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচনি চিত্রে বড় পরিবর্তন আসে। ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক যুবদল নেতা মো. দুলাল হোসেন (জাহাজ) এবং ৫ ফেব্রুয়ারি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন (ট্রাক) পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ধানের শীষের প্রার্থী দিপুকে পূর্ণ সমর্থন জানান। এতে নির্বাচনি সমীকরণে দিপুর অবস্থান আরো সুসংহত হয়।
আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মো. ইমদাদুল্লাহ হাশেমি (হাতপাখা), সিপিবির মনিরুজ্জামান চন্দন (কাস্তে) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল (আপেল) প্রচারণা চালালেও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব দলের সংগঠিত ভোটভিত্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নে, ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও সাংগঠনিক শক্তি, মাঠের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে দিপু অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর শক্ত ভোটব্যাংক না থাকায় তাদের প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দিপুর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। নিয়মিত গণসংযোগ, পাড়া-মহল্লায় পথসভা এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় প্রতীক, সাংগঠনিক কাঠামো, পারিবারিক পরিচিতি এবং মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। ভোটার উপস্থিতি এবং ওইদিনের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে—রূপগঞ্জে বিজয়ের চূড়ান্ত ফলাফল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









