শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

রয়টার্স এক্সক্লুসিভ

ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানি আলোচকদের নিরাপত্তা দিয়ে দেশে পৌঁছে দেন পাকিস্তান

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানি আলোচকদের নিরাপত্তা দিয়ে দেশে পৌঁছে দেন পাকিস্তান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি কূটনীতিক দলকে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী নিরাপত্তা পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দিয়েছিল—তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেদিন ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া মার্কিন কূটনীতিক দল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্রুত ইসলামাবাদ ছাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যর্থ আলোচনার পর ইরানের কূটনীতিকদের আশঙ্কা ছিল, দেশে ফেরার পথে ইসরায়েল তাদের হত্যা করার চেষ্টা করতে পারে—এরপর পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বড় বহর ইরানি কূটনীতিকদের বহন করা উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দেয় বলে ওই তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানা আছে, এমন দুটি পাকিস্তানি সূত্র বলেছে, ইসলামাবাদ থেকে দেশে ফিরে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান প্রায় দুই ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। পাশাপাশি বিমানবাহিনীর এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করে আকাশ পর্যবেক্ষণেও করা হয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতের আলোচনার ক্ষেত্রেও ইরানিরা চাইলে একই ধরনের নিরাপত্তা সুরক্ষা দেওয়া হবে, অথবা পাকিস্তানি উড়োজাহাজ তাদের পাকিস্তানের আকাশসীমায় গ্রহণ করবে।

আলোচনায় যুক্ত তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহান্তেই আরেক দফা আলোচনার সম্ভাবনা থাকায় পাকিস্তানে এরই মধ্যে আগাম কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

‘তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে’
একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেন, তেহরান থেকে তাঁকে বলা হয়—ইরানি প্রতিনিধিরা ‘সম্ভাব্য’ হুমকির কথা বলার পর পাকিস্তানই আকাশে নিরাপত্তা পাহারা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিল।

সম্ভাব্য এই হুমকি এবং ইরানি প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পাহারা দেওয়ার বিষয়ে এর আগে আর কোথাও কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি।

রয়টার্স থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি।

জেনেভায় ইরানের স্থায়ী মিশন থেকেও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি। পাকিস্তানের বিমানবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীও এই অভিযানের বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও মন্তব্যের অনুরোধে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে একটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, কিছু একটা গড়বড় হওয়া নিয়ে ইরানিরা সন্দিহান হয়ে উঠেছিল। তাদের সন্দেহ ছিল, তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

ওই নিরাপত্তা সূত্র আরও বলে, ‘পাইলটের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি ছিল একটি বিশাল অভিযান। আপনি এমন একটি প্রতিনিধিদলের দায়িত্ব নিচ্ছেন, যারা আলোচনার জন্য এসেছে, আপনি তাদের আকাশপথে সুরক্ষা দিচ্ছেন, আপনার কাছে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করতে পারে।’

১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর এবারের আলোচনা ছিল দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। এ আলোচনায় যুক্ত সূত্রটি আকাশপথে নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এটা নিয়ে বিস্তারিত আরও কোনো তথ্য তিনি দেননি।

সূত্রটি শুধু বলেছে, ‘আমরা তাদের তেহরান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। এখানে তাদের সফর শেষ হওয়ার পরও তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের ওপরই ছিল।’

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রোববার ইরানি কূটনীতিকদের নিরাপদে দেশে পৌঁছে দেওয়ার অভিযানে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর বহরে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক জে–১০ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

‘ইসরায়েলি হামলার তালিকায়’
দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদলটি নিরাপত্তা পাহারার অনুরোধ করেছিল, যা স্বাভাবিক প্রটোকলের চেয়ে অনেক বেশি। বাঘের গালিবাফ একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষিত পাইলট।

ওই আঞ্চলিক কূটনীতিক আরও বলেন, ইরানিরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধ করেনি। তবে তারা ‘এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ইসরায়েল এমনকি তাদের বহন করা উড়োজাহাজেও হামলা করতে পারে।’

এ কারণে পাকিস্তান নিরাপত্তা পাহারা দেওয়ার ওপর জোর দেয়।

প্রতিনিধিদলটি তেহরানে অবতরণ করেনি। তারা কোথায় অবতরণ করেছে, সে তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানান ওই কূটনীতিক।

আব্বাস আরাগচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল। পরে পাকিস্তান ওয়াশিংটনের কাছে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

পাকিস্তানের যুক্তি ছিল, তারা বেঁচে না থাকলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের পক্ষে আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।

যদিও গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাদের জন্য জীবনবিমা দেব না।’ এখানে তিনি ইরানের কথাই উল্লেখ করছিলেন।

নেতানিয়াহু আরও বলেছিলেন, ‘আমরা কী পরিকল্পনা করছি বা কী করতে যাচ্ছি, সে সম্পর্কে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলার ইচ্ছা আমার নেই।’

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.