কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্প। রাত হলেই সেখানে মজুদ এবং সেখান থেকে উচ্চ দামে বিভিন্ন যায়গায় সরবরাহ করে আসছিল অবৈধ তেল মজুদকারী চক্রা। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মতির মোড় বাইপাস সড়কে অবস্থিত মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে গভীর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালন করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের অভিযোগে ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জরিমানা অনাদায়ে কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
অভিযানে ৩৯১৭ লিটার পেট্রোল, ৩৩৮ লিটার ডিজেল, ২৫০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয় যার বাজার মূল্য ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত ওই অভিযান পরিচালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন। অভিযানে সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ফিলিং স্টেশনটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে পাশের একটি সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালালে সেখানে বেশ কয়েকটি তেলের লরি, কাভার্ড ভান, বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের জার ও একটি নোয়া গাড়ি পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওই কাভার্ড ভ্যানগুলো বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও ওই যানবাহনগুলোর ভিতরেই অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল মিনি পেট্রোল পাম্প। এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে উচ্চদামে সরবরাহ করে আসছিল চক্রটি। পরে ওই ফিলিং স্টেশনের রাস্তার ওপাশেও একটি গোডাউনে তল্লাশী করে বিপুল পরিমান তেলের সন্ধান পাওয়া যায়।
তল্লাশিতে কাভারভ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপিত মিনি পাম্পের মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল স্থানান্তরের প্রমাণ মেলে। একই সঙ্গে নোয়া গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সরঞ্জাম এবং বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়, যা জ্বালানি স্থানান্তর ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্লাস্টিকের বড় বড় জারে তখনও ভরপুর তেল মজুদ ছিল।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সৈয়দপুরের পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার আব্দুল রহমানের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৬) কে ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
এছাড়া একই এলাকার মো. সেরাজ (২৫), হাতিখানা এলাকার মঈনুদ্দীন (৪৮), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার জাহাঙ্গীর (৩৫), সাগর (৩৫), মিস শেখ (২৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সিরাজ (২৮)- ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় আটককৃতদের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিসেট্রট মো. সাব্বির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা রাতে এই অভিযান পরিচালনা করি। এবং হাতে নাতে অবৈধভাবে তেল মজুদদারদের ধরতে পেরেছি। জব্দকৃত জ্বালানি তেল অন্য পাম্পে বিক্রয় করা হবে যাতে জনসাধারণ জ্বালানী তেল পেতে পারে। এবং সবকিছু জব্দ তালিকাভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
সূত্র জানায়, বেশ কয়েটি তেলের লরি, ক্যাভার্ড ভ্যান, বড় বড় জার, আম্বুল্যান্স করে তেল মজুদ করে রাখা এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চ দামে বিক্রি করে আসছিল তারা। বাইপাসের উভয় সাইডে বিশাল গোডাউন করে বিভিন্ন অসুদাপায়ে তেল মজুদ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চদামে বিক্রির সব ব্যবস্থা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে গোটা সৈয়দপুরসহ আশপাশের জেলাতেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









