কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় গভীর রাতে পদ্মা নদীতে শরিফুল ইসলাম ববি (৩৮) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোলাপনগর মনি পার্ক এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পদ্মার বুকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ববি ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত আলম খন্দকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনি তার সঙ্গে চারজনকে নিয়ে একটি স্পিডবোটের ট্রায়াল দিতে পদ্মা নদীতে নামেন। পার্ক এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ অপর একটি স্পিডবোট থেকে তাদের লক্ষ্য করে একসংগে গুলি ছোড়া হয়। এতে শরিফুল ইসলাম ববি গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পরপরই তাকে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের খাতায় এ বিষয়ে তথ্য থাকলেও পরবর্তীতে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, “হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টারে গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে এবং জরুরি বিভাগের খাতায় আহতের কারণ হিসেবে ‘গানশুট’ লেখা রয়েছে। তবে তাকে নির্ধারিত ওয়ার্ডে খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় গুলিবিদ্ধ যুবকের স্ত্রী বনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তার স্বামীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি, প্রায় পৌঁছে গেছি। ঘটনা সম্পর্কে এখনো আমি কিছুই বিস্তারিত জানি না। সুস্থ হলে সে নিজেই সব বলতে পারবে।”
ঘটনার কারণ হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, পদ্মায় আধিপত্য বিস্তার, চর দখল এবং বালুঘাট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। অতীতে এসব গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নদীকেন্দ্রিক এসব গ্রুপের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। জানা গেছে, মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির সঙ্গে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।
বক্তব্য জানার জন্য মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মনি গ্রুপের সদস্য জুয়েল জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, “পদ্মা নদীতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। পার্ক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









