এক পাশে বছরের পর বছর ধরে থমকে থাকা নির্মাণাধীন ভবন, অন্য পাশে সড়কজুড়ে কাঁচাবাজার। কোথাও পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী, কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে ভবনের অংশ। সড়কের ওপর সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসিয়ে চলছে বেচাকেনা।
এতে একদিকে যেমন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ, অন্যদিকে প্রতিদিনই তীব্র যানজট ও দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় এক দশক ধরে এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে পাবনা পৌর কাঁচাবাজার এলাকায়।
জানা যায়, আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ১০–১১ বছর আগে পুরোনো মার্কেটটি ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজসংলগ্ন সড়কের ওপর অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্থায়ী দোকান না থাকায় তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রাতে চুরির ঘটনাও ঘটে। অনেকের পণ্য নষ্ট হয়, আবার ক্রেতার সংখ্যাও আগের তুলনায় কমে গেছে।
এক মাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “১০ বছর ধরে রাস্তায় বসে ব্যবসা করছি। দোকান না থাকায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। রাতে চুরি হয়। মার্কেটটি দ্রুত শেষ হলে আমরা ভেতরে চলে যেতে পারব।”
আরেক কাঁচ তরকারি ব্যবসায়ী মিল্লাত হোসেন বলেন, ভিতরে যখন ব্যবসা করতাম সবকিছু ফেলে রেখে বাড়ি চলেম । তখন অস্থায়ী ছাপরা ঘর ছিল। বর্তমানে রাস্তার উপর দোকানদারি করতে এসে ভালো করে সবকিছু বেঁধে রেখে গেলেও যেহেতু রাস্তার মধ্যে অনেকে অনেক কিছু হাতিয়ে নিয়ে যায়“আবার বৃষ্টি বাদলে আমাদের সবকিছু প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে আমাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হোক।”
বর্তমানে সড়কের বড় একটি অংশজুড়ে বাজার বসায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, যানবাহনের চালক এবং সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে পৌর সহকারী প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ ওবায়েদ-উল হক বলেন “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। অসমাপ্ত মার্কেটের কারণে ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দশক আগে আধুনিক বাজার নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত ভবনটি অবহেলায় পড়ে থাকায় সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের ওপর বাজার বসে জনদুর্ভোগও দিন দিন বাড়ছে।
রাধানগর রথ ঘরের পাশের বাসিন্দা ইকরাম হোসেন জানান সে কবে থেকে শুনে আসতেছি এখনও শেষ হলো না কাজ। বাজারের উপরে দাঁড়ায় থেকেই বাজার করতে হয়। আগে ভিতরে বাজার ছিল রাস্তায় তেমন সমস্যা হইত না এখন প্রচুর সমস্যা হয় যাতায়াতে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে ব্যবসায়ীদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের মাধ্যমে সড়ক দখলমুক্ত করা হোক। এতে যেমন জনভোগান্তি কমবে, তেমনি রক্ষা পাবে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









