বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, ‘সাধারণত আপনার প্রতিপক্ষকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের যারা প্রতিপক্ষ তারা দৃশ্যমান না। তাদেরকে দেখা যায় না। তারা মানুষের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে বোরকা পরে মহিলাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। মিথ্যাচার করে, ধর্ম বিক্রি করে’।
তিনি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার ৭টায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট ট্রাফিক চত্বরে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সমর্থনে এক জনসভায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোন অদৃশ্য শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সার্বভৌমুতের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জিতবে হবে। আমরা স্থিতিশীলতা চাই। আপনরা ইতিমধ্যে দেখেছেন অনেকেই নির্বাচন বাধাগ্রস্থ করতে চায়। তারেক রহমানের একটি প্ল্যান আছে। উন্নয়ন সমৃদ্ধ দেশ গড়তে যুবক পুরুষ মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির চিন্তা উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং জনগনের আস্থা অর্জন করতে হবে।
বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন কমিশনার ও নজরুল ইসলাম লিটনের যৌথ সঞ্চালনায় এতে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম -১ মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সদস্য সচিব আজিজুর রহমানসহ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, মিরসরাই উপজেলা, বারইয়ারহাট পৌরসভা ও হিঙ্গুুলী ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এসময় তিনি বলেন, গত ১৭/১৮ বছরের ত্যাগের প্রতিদান দিতে হবে আগামী ১২ তারিখের ভোটের মাধ্যমে। মনে রাখতে হবে বিএনপি হচ্ছে দেশের গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেনি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করাই বিএনপির আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি একটি শিক্ষিত ও মেধাবী জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করতে চায়। তিনি তারেক রহমানের “অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের” ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, এর মাধ্যমে অর্থনীতির সুফল কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে না থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং দেশে লুটপাটের রাজনীতির অবসান ঘটবে।
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ফটিকছড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফটিকছড়ির সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে একটি সমৃদ্ধ উপজেলায় রূপান্তর করা হবে।
জনসভায় ফটিকছড়ি আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি গড়তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ ছালাউদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং নাজিম উদ্দীন শাহীনের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক এমপি নুরী আরা ছাফা এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ও সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী। এছাড়া মির্জা মো. আকবর, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, আহমেদ হোসেন তালুকদার, মিহির চক্রবর্তী, সৈয়দ ওমর ফারুক মাইজভান্ডারি, জহির আজম চৌধুরী, নুরুল হুদা চৌধুরী, মো. এজহার, আবু জাফর মাহমুদ, আবুল কালাম আজাদ, মুনসুর আলম চৌধুরী, শহিদুল আজম চেয়ারম্যান, জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
কাওছার/এ


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









