জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে গণমিছিল ও পথসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগর।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে মনিচত্বর, আলুপট্টি ও কুমারপাড়া হয়ে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার এবং জনগণের গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, নায়েবে আমীর ডা. মো. জাহাঙ্গীর, মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, ত্রাণবিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যবসা ও কল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক একেএম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ, তরবিয়ত সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামানসহ মহানগর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতিফলন এবং সংঘটিত গণহত্যার নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তারা আরো বলেন, কোনো জাতি তার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উপেক্ষা করে সামনে এগোতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জনগণের সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন এবং জনগণের রায়ের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পথসভা শেষে নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









