আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থীসহ ২৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শেষ দিনে ৮, ৯, ১০ ও ১১ এই চারটি আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পর ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) এ মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এর মধ্যে ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান ভূইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না থাকায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর এ. আর. খানের ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।হলফনামায় তথ্য ভুল এবং ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী পিন্টু চন্দ্র বিশ্ব শর্মার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন বিন আবদুল মান্নান ও হাসিনা খান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়। ঋণখেলাপি থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শামসুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এদিকে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না থাকায় আল ফাতাহ্ মো. আবদুল হান্নান খান, আলমগীর মাহমুদ, মুশফিকুর রহমান ও মো. মতিউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয়।
এছাড়াও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য ও তালিকা সঠিক না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
শনিবার জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ময়মনসিংহ-৪, ৫, ৬ ও ৭ এই চারটি আসনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়।
এরমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে দাখিলকৃত ১০ প্রার্থীর মধ্যে দুই জন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে দাখিলকৃত ৬ প্রার্থীর মধ্যে একজন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের বাতিল ও একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়। ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে দাখিলকৃত ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষনা করা হয়।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে হলফনামায় সম্পদের বিবরণ না দেওয়ায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী লিয়াকত আলী ও আয়কর রিটার্নে সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের তথ্য না দেওয়ায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হামিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দলের মনোনয়নপত্রে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরে মিল না থাকায় ও আয়কর রিটার্নে আয়-ব্যয়ের তথ্য না থাকায় এবি পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় মো. সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী ঋণখেলাপি থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ রানার সম্পদ ও আয়কর রিটার্নে তথ্য বিভ্রাট এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ থাকায় বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হলফনামায় তথ্য গোপন ও মামলার বিষয় উল্লেখ না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না পাওয়া, হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকা এবং দুটি মামলার তথ্য গোপন করায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নিজের অঙ্গীকারনামা ও কর্মরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ না করায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল মুনসুর ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না পাওয়া, আয়কর রিটার্ন ও সম্পদের পরিমান উল্লেখ না করায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদিনের ১ শতাংশ ভোটার সমর্থন সঠিক না পাওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আ: কদ্দুস ২০০২ সালে তাঁর নামে থাকা একটি মামলার তথ্য হলফনামায় না দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ফলে এ আসনে এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে ভোটারদের মাঝে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রথম দিনে ময়মনসিংহ ১, ২ ও ৩ আসনে ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসন থেকে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদুল হক ঋণখেলাপি ও মামলার তথ্য গোপন করায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ্ শহীদ সারোয়ারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, চালানের মূল কপি ও মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থন সূচক কাগজপত্র দিতে না পারায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হয়। এর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে যাচাই-বাছাইয়ে বাংলাদেশের নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. আবু তাহের খান হলফনামায় মামলা-সংক্রান্ত তথ্য ও সম্পদের বিবরণী না দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয়।
একইসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম মনোনয়নপত্রে সম্পদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী না থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নানা ত্রুটি থাকায় ১১টি আসনের মোট ২৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ আদেশের কপি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা চাইলে আপিল করতে পারবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









