নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া রজব আলীর মোড়ে সোমবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক নারী ও তার দেড় বছরের শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোনতাজ ফকির ও নেকজার ফকির পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় ৮-১০ সদস্যের পরিবারটি গভীর ঘুমে থাকাকালীন হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুনের তীব্রতায় মুহূর্তেই পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে গুরুদাসপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু ততক্ষণে মোনতাজ ফকিরের পুত্রবধূ আতিয়া (২৭) ও তার দেড় বছরের শিশু কন্যা রোজা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় মোনতাজ ফকিরের স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া মোনতাজ ফকির ও তার ছেলে রানটু আগুনে আংশিক দগ্ধ হন।
অগ্নিকাণ্ডে মোনতাজ ফকিরের তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ সময় ৮টি ছাগল ও একটি গরু মারা যায়। ঘরের আসবাবপত্রসহ সব মালামাল ভস্মীভূত হয়। অপরদিকে নেকজার ফকিরের একটি দোকানঘর ও গোয়ালঘর পুড়ে যায় এবং ৫টি ছাগল মারা যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গুরুদাসপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং চাল, কম্বল ও শুকনা খাবার পৌছে দেন। পাশাপাশি দ্রুত ঘর নির্মাণের জন্য টিন দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুল ইসলাম, ওসি শফিকুজ্জামান সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুর রশীদ।
কাওছার/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









