টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্র হিমছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ের বড় একটি অংশ ধসে সড়কের ওপর পড়লে কক্সবাজার শহরের সঙ্গে হিমছড়ি, ইনানী ও টেকনাফমুখী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পাহাড় ধসে সড়কের ওপর মাটি, পাথর ও গাছপালা পড়ে থাকায় দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে পর্যটকবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে থাকা শত শত পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় সড়কের ওপর থেকে ধসে পড়া মাটি, পাথর ও গাছপালা সরানোর কাজ শুরু করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত সড়কটি পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ভোর থেকে হিমছড়ি ও আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। এতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে একপর্যায়ে পাহাড়ের একটি বড় অংশ সড়কের ওপর ধসে পড়ে। আকস্মিক এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পর্যটক আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, হঠাৎ পাহাড় ধসে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছি। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের হয়ে উঠেছে। দ্রুত সড়কটি পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভের পাহাড়ি অংশে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও সড়কের পাশের অংশগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রামু উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জিল্লুর রহমান জানান, ধসে পড়া মাটি ও গাছপালা পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশে যান চলাচল নিরাপদ নয়। গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে। বুধবার ভোরের কোন একসময় ওই স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মাটি সড়কের মাঝখানে এসে পড়ায় যান ও জন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পরিবেশবাদীরা বলছে, তাৎক্ষণিকভাবে ধসের মাটি সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে সড়ক ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় হিমছড়িসহ কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা এবং মেরিন ড্রাইভে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









