‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায়, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুরে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘‘২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতা ও আপামর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলন। স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। কেউ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, কেউ পানি, চিকিৎসা ও নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আজকের নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হলে নিজেদের মধ্যে বিভেদ, অহংকার ও হানাহানি পরিহার করতে হবে। শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন, উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থানভিত্তিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’’
পাশাপাশি আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং চিকিৎসাধীন আহত যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ও যথাযথ রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। বৈষম্যহীন সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়েই তরুণরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের কেউ যদি এখনো তালিকাভুক্ত না হয়ে থাকেন, উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে।’’
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত যোদ্ধা মোমিনুল হাসান নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘‘কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা সুবিধার জন্য নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় থেকেই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিল। ভবিষ্যতে যেন কোনো রাজনৈতিক শক্তি স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু, দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্রী পঞ্চনন্দ সরকার, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য মো. সাইদুর রহমান মন্টু, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান আয়নাল, সদস্য সচিব অধ্যাপক জোবায়েদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম সাকলায়েন ও আশরাফুল কবির বুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফারুক ইমাম সুমন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মণ্ডল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান লালটু, সদস্য সচিব রেজাউল করিম স্বপন, উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জার্জিস হোসেন সোহেল ও গোলাম মর্তুজা, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক চয়েন উদ্দিন শেখ, আহত জুলাই যোদ্ধা হাবিবুল আউয়াল, মেহজাব গালিব মাহিম, মোমিনুল হাসান, ফয়সাল আহমেদ, সোহাগ আলী ও মজনুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র-জনতা, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









