কুষ্টিয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, নিত্যনতুন লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, ভৌতিক বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘১১ দলীয় ঐক্য’, কুষ্টিয়া জেলা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, কুষ্টিয়া জেলার অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের গৃহস্থালি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের অসঙ্গতিপূর্ণ বিল ও বিদ্যুতের ভৌতিক বিলে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর গঠিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্মারকলিপিতে কুষ্টিয়া জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো - রান্নার কাজে এবং শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক, অতিরিক্ত ও ভৌতিক বিল পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং পূর্বে পাঠানো ভুল বিল সংশোধন করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের বৃদ্ধি করা দাম কমাতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোদ ও বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুষ্টিয়া জেলা আহবায়ক বেলাল হোসেন-সহ ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার আগে ১১ দলীয় জোটের একটি মিছিল শহরের সাদ্দাম বাজর মোড় থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে সমাবেশ করে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, খোকসা-কুমারখালী থেকে নির্বাচিত এমপি ও জামায়াত নেতা আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে আকাশচুম্বী করে তোলা হয়েছে। তার উপর বিদ্যুতের লোডশেডিং এখন একেবারেই সহ্য সীমার বাইরে চলে গিয়েছে। তারেক রহমানের সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন তাহলে এখনই গদি থেকে নেমে যান।”
সমাবেশ শেষে জেলাপ্রশাসকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলামের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে যথাস্থানে প্রেরণের আশ্বাস দেওয়া হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









