ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ময়মনসিংহের সংসদীয় আসন ঈশ্বরগঞ্জ-৮, নান্দাইল-৯, গফরগাঁও-১০ এবং ভালুকা-১১ আসনের মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।
স্বতন্ত্র প্রার্থীতায় এক শতাংশ ভোটারে গড়মিল, হলফনামায় তথ্য ভুল এবং ঋণখেলাপির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এরআগে গত দুই দিনে ১১টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনে ১৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯৪ প্রার্থীর মধ্যে ৬৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ও ২৯ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে যাচাইবাছাইয়ে বৈধ মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইসমাইল হোসেন সোহেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, এলডিপির মাহবুব মুর্শেদ, গণসংহতির শামসুল আলম, জাতীয় পার্টির আল আমীন সুহান, এবং কমিউনিস্ট পার্টির সাইফুস সালেহীন।
অপরদিকে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তারা সবাই বিএনপির বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না পাওয়ার কারণে। মুশফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ফাত্তাহ ও আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করা হয় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের প্রয়োজনীয় সত্যতা না পাওয়ায়। মতিউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের সত্যতা না পাওয়া এবং সম্পদের হলফনামায় তথ্য সঠিক না থাকার কারণে।
মনোনয়ন যাচাইবাছাই শেষে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গফরগাঁও আসনে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রাথমিক চিত্র স্পষ্ট হলো।
স্থানীয়রা বলছেন, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সাথে মূল লড়াই হবে জামায়াতের ইসমাইল হোসেন সোহেলের। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কারী হাবিবুল্লাহ বেলালী এবং এলডিপির মাহবুব মুর্শেদ জামায়াতের নেতৃত্বে জোটে থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা হবে। অপরদিকে নিয়ম অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না থাকা এবং ঋণ খেলাপি হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর এ. আর. খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। হলফনামায় ভুল তথ্য প্রদান ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী পিন্টু চন্দ্র বিশ্বশর্মার মনোনয়ন বাতিল হয়। একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন বিন আবদুল মান্নান ও হাসিনা খান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া ঋণ খেলাপি থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শামসুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তালিকা সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। অপর ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









