জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা বরগুনায় সবুজায়নের লক্ষ্যে ২১শ’ বৃক্ষরোপণ করেছে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড। তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, ভেষজ, বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীপুর দাঙ্গার খালের দুই পাড়ে ৯৭০টি ফলজ, ভেষজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাসলিমা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন, পূবালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মুহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ, বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ, পূবালী ব্যাংকের বেতাগী শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম রনিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে সারিবদ্ধভাবে তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় বরগুনায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তালগাছ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সহায়ক।
পূবালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মিজ্ তাসলিমা আক্তার বলেন, “এ ধরনের বৃক্ষরোপণ স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।”
বরগুনার মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বৃক্ষরোপণকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা। তবে শুধু চারা রোপণ নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এমন উদ্যোগ উপকূলের সবুজ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









