নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যের কেউই আর বেঁচে নেই। একে একে প্রাণ হারিয়েছেন আট বছরের শিশু মারুফ, তার মা বিউটি আক্তার (২৪) ও বাবা রাজমিস্ত্রি মাইদুল ইসলাম (২৮)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পরিবারের একমাত্র জীবিত ব্যক্তি মাইদুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।
সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুলের স্ত্রী বিউটি আক্তার। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আর শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাদের একমাত্র সন্তান মারুফের। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, বিস্ফোরণে শিশুটির শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
উল্লেখ, শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া-চাপাতলী এলাকার সালাউদ্দিনের টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বাড়ির একটি কক্ষে স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফকে নিয়ে থাকতেন নাটোরের বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম। মাইদুলের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। কাজের সন্ধানে প্রায় এক বছর আগে সপরিবারে নারায়ণগঞ্জে আসেন তিনি। পরে কুড়িপাড়া-চাপাতলী এলাকায় সালাউদ্দিনের টিনশেডের বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাড়া ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। টিনশেডের ঘরটির পাশে ছিল রান্নাঘর। সেখানকার গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে ঘরের ভেতরে জমে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হতে না পেরে ভেতরে জমে যায়। পরে আগুনের সংস্পর্শে এসে সেই জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









