পটুয়াখালীর দশমিনায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও আইসিটি সুপারভাইজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আইসিটি সুপারভাইজার পদে আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক প্রার্থীর নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদে চূড়ান্ত তালিকায় অপেক্ষমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন ছয় প্রার্থী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে মো. জসিম উদ্দিনসহ ছয় প্রার্থী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন। অভিযোগটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে নাঈম হাসান আইসিটি সুপারভাইজার পদে আবেদন করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তথ্য সংগ্রহকারী পদে কোনো পরীক্ষায় অংশ নেননি। অথচ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, রণগোপালদী ইউনিয়নের অন্য দুই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নাঈম হাসানের নাম ২৩ নম্বর ক্রমিকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
লিখিত অভিযোগে মো. জসিম উদ্দিন, রাকিব হোসেন, বাচ্চু নিয়া, তামিম হাসান শুভ, ইউনুচ ও জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদন না করা একজন প্রার্থীর নাম ওই পদের অপেক্ষমাণ তালিকায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নাঈম হাসান বলেন, “আমি তথ্য সংগ্রহকারী ও আইসিটি সুপারভাইজার, দুই পদেই আবেদন করি এবং লিখিত পরীক্ষায় দুই পদেই অংশগ্রহণ করি। তবে মৌখিক পরীক্ষায় শুধু আইসিটি সুপারভাইজার পদে অংশ নিই। পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় তথ্য সংগ্রহকারী পদে আমার নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’’
দশমিনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, “আমি বর্তমানে ওই দায়িত্বে নেই। চলতি দায়িত্বে যিনি আছেন, তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি জানতে পারেন।’’
সদ্য যোগদান করা দশমিনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইসরাফুল হোসেন বলেন, “আমি এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদ হাসান মৃধা বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখব। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং আমাকে এর মাধ্যম করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









