সিলেটের গোয়াইনঘাটে আপন ভাই সয়ফুল্লাহ‘র (৬০) দায়ের কোপে কলিম উল্লাহ (৫৫) নামে অপর ভাই নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট গ্রামের পূর্ব দীঘিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে কলিম উল্লাহর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রুনা বেগমকে নিজ ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে তার আপন চাচাতো ভাই জুবের আহমেদ (২০)। এ সময় রুনার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি দেখতে পান এবং জুবের আহমদকে আটক করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে অভিযোগের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশে জুবেরের বাবা সয়ফুল্লাহ (৬০) জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতেই জুবেরের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে সালিশে বিচার না পেয়ে শনিবার গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল বিষয়টি আমলে নিয়ে এসআই নাঈমুলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
পরে এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। এ সময় কলিম উল্লাহর সঙ্গে তার ভাই সয়ফুল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে পুলিশের সামনেই কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। দার আঘাতে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে গুরুতর জখম হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তবে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, ‘‘ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সয়ফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে।’’ এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









