একটি ভিডিও। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। আর সেই আলোচনার মধ্যেই আসে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে এমনই এক ঘটনার পর জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকাল থেকে। এ সময় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল মারুফের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে মাদক সেবন করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় মানুষের নজরে আসে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দেখা দেয় নানা প্রতিক্রিয়া। দলের একজন পদধারী নেতাকে ঘিরে এমন অভিযোগ ওঠায় শুরু হয় সমালোচনা।
এর মধ্যেই বিষয়টি পৌঁছে যায় ছাত্রদলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আর অপেক্ষা না করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফকে অসামাজিক কাজে জড়িত থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রোবেল শেখ এবং সদস্যসচিব হাসানুর রহমান হাসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বহিষ্কারের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রোবেল শেখ বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত ছাত্র সংগঠন। মাদকসেবী বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কারও এখানে স্থান নেই।
তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ আল মারুফের ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি নেতাদের নজরে আসার পরপরই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে কেউ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার সুযোগ পাবে না।
রোবেল শেখ আরও বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কিংবা পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
শুধু বহিষ্কার করেই বিষয়টি শেষ করেনি উপজেলা ছাত্রদল। সদস্যসচিব হাসানুর রহমান হাসান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) মো. জাফর ইমাম খান (মিতুল) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একজন পদধারী নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কারণ হয়ে দাঁড়াল, সেটিই এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই বা এ ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









