বরগুনায় বাবার দায়ের করা মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন আপন দুই ভাই সালাহ উদ্দিন ও আবুল কালাম।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রানা শেখ দুই ভাইকে বেকসুর খালাস দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বরগুনা পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু সড়কের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল বাছেদ বাচ্চু (৭১) তিনি তার নিজ দুই ছেলের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত করে দুই ভাইর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন।
বাবার অভিযোগ ছিল পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে তার দুই ছেলে মো: সালাহ উদ্দিন ও আবুল কালাম প্রবাসি দুই বোন পারভিন ও জেসমিন ও আমাকে মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। তবে মামলার নথিপত্র, সাধারণ ডায়েরি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, আদালতে নিখুঁত ভাবে আইনি যুক্তি ও অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছি। আদালত ঘটনার তারিখ ও সময়ে চরম অসঙ্গতি, প্রবাস থেকে বাদীর কন্যাদের কাল্পনিক উপস্থিতি, চিকিৎসা সনদের অনুপস্থিতি এবং সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ঘোষণা করেন আদালত।
বাদির বড় ছেলে সালাহ উদ্দিন বলেন, আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় তানিয়া নামের ছোট্ট একটি মেয়েকে বরগুনা শহরের কয়েক কেটি টাকার বাড়িটি তার নামে লিখে দেয়। আমরা প্রতিবাদ করলে বাবা আমাদের উপর ক্ষেপে যান। সেই তানিয়া বাড়ি বিক্রি করে বাবাকে ছেড়ে চলে যায়।
আবুল কালাম বলেন, আমাদের বাবা বৃদ্ধ বয়সে একাধিক ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে বিয়ে করেন। আমার দুই বোন বাবার পক্ষে থাকেন। বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। সবাই তাকে সম্মান করেন। বার বার বিয়ে করার কারনে তিনি এখন সবার কাছে হাস্যকর হয়েছেন। একটি অশুভ চক্রে পড়ে আমাদের বাবা বারবার বিয়ে করেন। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করছেন।
অন্যদিকে আমাদের দুই প্রবাসী বোন বাবার কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাবাকে খুশি করতে কিছু আগে আবার একটি কম বয়সের মেয়েকে বিয়ে করায়।
বাবা আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ করেন, তাকে আমরা মেরেছি। তিনি আদালতে প্রমান করতে পারেননি। তাই আদালত আমাদের খালাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ বাচ্চু বলেন, আমাকে দুই ভাই মারধর করেছে। আমার কাছে তারা ক্ষমাও চাইল না। আদালত এক হাজার টাকা জরিমানা করলেও আমি খুশি হতাম। বুড়ো বয়সে আবারও হয়তো ছেলেদের হাত মার খাইতে হবে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









