শরীয়তপুর পৌরসভায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কের কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সড়কের গুণগত মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা বিক্ষোভ করে সংস্কারকাজের মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ চলাকালে কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তা যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা কাজে অনিয়ম করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনগণের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না পেরোতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গর্তও তৈরি হয়েছে। এত অল্প সময়ে একটি সংস্কার করা সড়কের এমন অবস্থা হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমামুল হক বেপারি বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
শরীয়তপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজ। কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় চার কোটি টাকা। কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। গত জুনে সংস্কারকাজ শেষ করে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হবে।
সড়ক সংস্কারকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা শরীয়তপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন গাজী বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পরপরই টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পুনরায় সংস্কার করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন জেলা শহরে যাতায়াত করে। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই হবে না; প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে করা পুরো সংস্কারকাজের গুণগত মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং কাজের পরিমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









