মাদারীপুর-শেখপুর-শিবচর প্রধান সড়কের দুই পাশে হেলে পড়া, ধলে পড়া ও মরা গাছ অপসারণের নামে পরিবেশবান্ধব ও জীবিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিধিবহির্ভূতভাবে বৃক্ষনিধন বন্ধ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও মরা গাছ অপসারণের প্রয়োজন থাকলেও সেই সুযোগে কিছু জীবিত ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এসময় শিবচর উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (শহিদ চেয়ারম্যান), প্রভাষক আসাদুজ্জামান আসাদসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা মরা গাছ অপসারণের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতি অনুসরণ করে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তা করা উচিত। কিন্তু মরা গাছ অপসারণের নামে যদি সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব গাছ কেটে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তারা আরও বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অক্সিজেন সরবরাহ, ছায়া প্রদান এবং সড়কের পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সড়ক উন্নয়ন বা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান, মাদারীপুর-শেখপুর-শিবচর প্রধান সড়কের দুই পাশে সম্প্রতি যেসব গাছ কাটা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করতে হবে। কোন গাছ মরা, কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোনটি জীবিত তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
একই সঙ্গে গাছ কাটার অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্ত এবং গাছ অপসারণের প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়মে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, সড়কের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের পাশাপাশি কাটা গাছের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে গাছ কাটার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









