পটুয়াখালীর দশমিনায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে এমসিকিউ উত্তরপত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে পূরণ করার অভিযোগে ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের কেন্দ্রের হল সুপার মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, সুশীল সমাজ, আইনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দশমিনা উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযুক্ত হল সুপার মো. মহিউদ্দিন ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী গত ১ আগস্ট কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজ ছিল মূল কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের পাশাপাশি সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি উপকেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মূল কেন্দ্র থেকে এমসিকিউ উত্তরপত্র উপকেন্দ্রে নেওয়ার পর হল সুপার মো. মহিউদ্দিন তাঁর মামাতো ভাই মোর্শেদ জিহাদের উত্তরপত্র বের করে মোবাইল ফোনে উত্তর সংগ্রহ করে তা পূরণ করেন। ওই পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ৪০৭২২৬ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১১৫৯৯৩২ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি শিক্ষক কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক প্রত্যক্ষ করে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন বলে অভিযোগকারীরা জানান। পরে এমসিকিউ উত্তরপত্র পূরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হল সুপার মো. মহিউদ্দিনকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন বলে জানা গেছে।
পরে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে গত ২ আগস্ট অভিযুক্ত হল সুপারকে ৬ আগস্ট সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র অনিয়মের মাধ্যমে পূরণ করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা না হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী, সুশীল সমাজ, আইনজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “বুধবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হল সুপার মো. মহিউদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









