পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বুড়াবুড়ি ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে গিয়ে বছরের পর বছর নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে রাতের বেলায় কিংবা জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বিপাকে পড়তে হতো স্বজনদের। দীর্ঘদিনের সেই দাবি এবার পূরণ হয়েছে। নির্বাচনের আগেই নিজ অর্থায়নে ইউনিয়নবাসীর জন্য একটি মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে আলোচনায় এসেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও মানবিক ব্যক্তি দুলাল হোসেন বাচ্চু।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় ইউনিয়নজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে একটি অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন সাধারণ মানুষ। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কোনো রোগীকে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা পঞ্চগড়সহ দূরের হাসপাতালে নিতে হলে ভাড়ায় গাড়ি সংগ্রহ করতে হতো। অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে যানবাহন না পাওয়ায় রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যেত। এ কারণে বিভিন্ন সময় নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসভায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ইউনিয়নবাসী একটি অ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
দুলাল হোসেন বাচ্চুও প্রচারণার সময় ইউনিয়নবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তিনি মানুষের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করবেন। তবে নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় না থেকে মানুষের জরুরি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রেজাউল বলেন, ‘কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নবাসীর একটি অ্যাম্বুলেন্সের দাবি ছিল। বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় আমরা এ দাবি জানিয়েছি। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। বাচ্চু চেয়ারম্যান না হয়েও আমাদের জন্য একটি মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত খুশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে জরুরি প্রয়োজনে এলাকার মানুষ অনেক দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে পারবেন। এটি আমাদের ইউনিয়নের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।’
দুলাল হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘আজ থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি বুড়াবুড়ি ইউনিয়নবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম। ভোটে জয়ী হই আর না হই, মানুষের সেবা করার জন্যই আমি এই অ্যাম্বুলেন্সটি দিয়েছি। মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই আমার উদ্দেশ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়নের কোনো মানুষ অসুস্থ হলে শুধু তেল খরচ ও চালকের বকশিশ দিলেই এই অ্যাম্বুলেন্সে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে পারবেন। মানুষের কষ্ট লাঘব করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেই একজন প্রার্থী নিজের অর্থায়নে সাধারণ মানুষের জন্য এমন একটি প্রয়োজনীয় সেবা চালু করায় তারা সন্তুষ্ট। তাদের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এ উদ্যোগ অন্যদের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এ ইউনিয়নের মানুষের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনা, প্রসূতি মায়েদের জরুরি চিকিৎসা, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সময় ও ভোগান্তি কমাতে সহায়তা করবে।
উদ্বোধনের পর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল শোডাউনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। এ সময় অনেকেই অ্যাম্বুলেন্সটি ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের মানুষের জন্য দেওয়া এই সেবাটি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দুলাল হোসেন বাচ্চুর এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









