বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের কারণে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, রোদ-বৃষ্টি, লোডশেডিং এবং সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের দীর্ঘ লাইনের কারণে যানবাহন সংকট তৈরি হচ্ছে।
এতে মেলার বিক্রিতেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে। তবে মেলার শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে চলছে বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। মেলা চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা জমে উঠেছে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে গাছ দেখছেন, পরিচর্যা ও চাষাবাদ সম্পর্কে বিক্রেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং পছন্দের গাছ কিনছেন। কেউ দুর্লভ প্রজাতির গাছের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ছাদবাগানের জন্য ফল ও ফুলের চারা সংগ্রহ করছেন।
মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ ও আকর্ষণীয় গাছের পাশাপাশি রয়েছে বনসাই, ক্যাকটাস, ইনডোর প্ল্যান্ট, ফুল ও ফলের হাজারো চারা। এর মধ্যে মালয়েশিয়ান ফলজ গাছ রামবুটান বিশেষ নজর কেড়েছে। একটি রামবুটান গাছের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ টাকা। তবে ক্রেতাদের দরদামে তা ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
এ ছাড়া ফিলিপাইনি আর্ক গাছের দাম ২৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, জাপানের জাতীয় ফল পারসিমন গাছের দাম সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা, চীনের ভ্যারিগেটেড কাঁঠাল ২৫ হাজার টাকা, দেশি সাতকরা গাছ ৫ হাজার টাকা, বড় নাশপাতি গাছ ২৫ হাজার টাকা, চালতা গাছ ১০ হাজার টাকা, অস্ট্রেলিয়ান ফিঙ্গার লেমন ১০ হাজার টাকা এবং মেলিনা চেরি গাছের দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
মেলায় ঘুরতে এসে ব্যাংকার আদিবুল ইসলাম বলেন, তিনি তার ছাদবাগানের জন্য পেয়ারা ও লেবুর চারা কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, গাছ পরিবেশকে সুন্দর ও নির্মল রাখার পাশাপাশি জীবন রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চাকরিজীবী রফিকুল আমিন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি বেশ কিছু ফুলের গাছও কিনেছেন।
সপরিবারে মেলায় এসেছেন গৃহিণী শাহনাজ ইসলাম। তিনি বলেন, মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাওয়া যায়। এমন অনেক গাছ রয়েছে, যেগুলোর নামও তারা জানেন না। তাই সন্তানদের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি মেলায় এসেছেন। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার টাকার গাছও কিনেছেন তিনি।
নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রব বলেন, মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছাদবাগানের উপযোগী ফল ও ফুলের গাছ।
নগরজীবনের বাসিন্দারা নিজেদের ছাদকে সবুজ করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের গাছ কিনছেন। কেউ ঘর সাজানোর জন্য ফুলের গাছ নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের চাহিদা মেটাতে ছাদে ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
তিনি বলেন, আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, মাল্টা, কমলা, কামরাঙা, লিচু, বারোমাসি আম ও বিভিন্ন জাতের পেঁপে গাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। পাশাপাশি ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি ও বিদেশি জাতের বিভিন্ন ফলের গাছও ভালো বিক্রি হচ্ছে।
সুগন্ধা নার্সারির স্বত্বাধিকারী মনোয়ারা বেগম বলেন, ফুলের গাছের মধ্যে গোলাপ, জুঁই, বেলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জবা, বাগানবিলাস, নয়নতারা ও অর্কিডের চাহিদা বেশি।
সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মলয় লাল ধর বলেন, রোদ-বৃষ্টি, লোডশেডিং এবং সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের স্বল্প চাপজনিত যানবাহন সংকট মেলায় কিছুটা প্রভাব ফেলছে। এরপরও শেষ সময়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি গাছপালা ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী কেনাবেচা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিক্রির পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে। আয়োজকদের আশা, মেলার শেষ দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









