দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে এখন শুরু হয়েছে ব্যালট গণনা। ১২৯টি কেন্দ্র থেকে আসতে থাকা কেন্দ্রভিত্তিক বেসরকারি ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে প্রার্থী-সমর্থকসহ পুরো এলাকা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতেও ছিল বাড়তি সতর্কতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
সকাল থেকেই নারী, তরুণ ও প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান। প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের আগ্রহ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিশ্লেষকদের মতে, রূপগঞ্জের এই তরুণ ভোটাররাই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
সকাল ৯টায় মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভোট কেন্দ্রে সপরিবারে ভোট দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। এ সময় তিনি শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অন্য প্রার্থীরাও পৃথক কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তার আগে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর পুটিনা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান এবং ভোট গ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপগঞ্জ আসনের রয়েছে একটি বিশেষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। অতীত নির্বাচনে দেখা গেছে, এখানে যে দল জয়ী হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই আসনের ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব অনেক সময় বৃহত্তর জাতীয় বার্তার ইঙ্গিত দেয়।
ভোট শেষ হলেও উত্তেজনা এখনো থামেনি। গণনা শেষে কোন প্রতীক এগিয়ে থাকবে—তা জানতে অপেক্ষা করছেন সবাই। দলীয় কার্যালয়গুলোতে চলছে হিসাব-নিকাশ, সমর্থকদের মধ্যে চলছে সম্ভাবনার আলোচনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









