সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় কালনী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় সেই নারীর মরদেহের পরিচয় মিলছে। নিহতের নাম লাকি বেগম (৪০)। তিনি দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জগদল গ্রামের মৃত আব্দুরশহিদের সন্তান এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার সলফ গ্রামে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের পর নিঃস্ব লাকি বেগম স্বজনদের আশ্রয়েই বসবাস করতেন। গত প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন। গত ২১ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের মতো নাস্তা তৈরির পর সকাল ৯টার দিকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। এ ঘটনায় গৃহকর্তা কামাল মিয়া শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজের পর থেকে লাকির ব্যবহৃত পোশাকের ব্যাগ, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, টাকা রাখার স্টিলের বাক্স এবং বাড়ির প্রধান ফটকের চাবিও পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের রজনীগঞ্জ টানাখালি এলাকার কালনী (পুরাতন সুরমা) নদীতে এক নারীর ভাসমান মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে ভাসমান মরদেহটি লাকি বেগমের বলে নিশ্চিত করেন।
তবে লাকি বেগমের এই মৃত্যুকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ তার পরিবার। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং হত্যার পর আলামত গোপন করতে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
নিহতের ছোট চাচা দবির মিয়া অভিযোগ করে বলেন,আমার এতিম ভাতিজিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গৃহকর্তা কামাল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









