উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী ফুলবাড়ী দিবসের ২০তম বার্ষিকীতে বিভিন্ন স্লোগানে ফুলবাড়ী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে ফুলবাড়ী শহীদ স্মরণে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ঝিনাইদহ জেলা শাখা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ( সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবু তোয়াব অপু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুজন বিপ্লব, জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন লস্কর , জেলা সদস্য আরিফুল ইসলাম মিটুল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুল ইসলাম আসাদ, জেলা আসাদুর রহমান, শারমিন সুলতানা, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ জেলা সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল এনাম পল্লব প্রমুখ।
আয়োজিত কর্মসূচি থেকে নেতৃবৃন্দ বলেন, বসতভিটা, জল, জমি, মানুষ ও জীবন রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন প্রতিরোধের ২০ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা সরকারগুলো (২০০৬-২০২৬) প্রাণ প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য গুরুত্ব না দেওয়ায় মহাবিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উন্নয়নের নামে কতিপয় মানুষের মুনাফার নির্মম শিকার আজ দেশবাসী। কাজ হারিয়ে, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা সংকটে মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এত কিছুর পরেও থেমে নেই সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্নীতির।
বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার কথা বলেছে। আমরাও তা প্রত্যাশা করি। ২৬ আগস্ট ২০২৬ ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়েও সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত ‘৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।
২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট সরকারি বাহিনী বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ও পুলিশের গুলিতে তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে যায় ও দুই শতাধিক বিপ্লবী জনতা আহত হয়। এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে মানুষ, প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষি-জমি, সুপেয় পানি, পরিবেশ, বসত-ভিটা ও অবকাঠামোসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষা করেছিল।
দীর্ঘ সময়ে ও ঐতিহাসিক ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না করে অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের সাথে বেঈমানি করেছে। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে অপেক্ষায় আছি। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তির বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এই-আশা করি।
ফ্যাসিস্ট সরকার আমলের দায়েরকৃত ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতাদের নামে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। অবিলম্বে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হোক। রামপালসহ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল করে সর্বজনের স্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হবে। তাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে মধ্যদিয়ে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের কাছে শহীদ আমিন, সালেকিন ও তরিকুলের জীবন বিনিময়ে অর্জিত ফুলবাড়ীর রক্তাক্ত আন্দোলনের স্বাক্ষরিত: ‘৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি’র বাস্তবায়ন চাই।
২৬ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী দিবস’ সারাদেশে পালন করার জন্য জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও দেশবাসীকে ধন্যবাদের সাথে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









