নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুজা নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ওই দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক ক্লোজ করে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সার্বিক তদন্তে সার্কেল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম। পরে তাদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে যান।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে চন্দ্রপুর এলাকার দুই শিশু মারা যায়। ওই ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ সময় নিহত দুই শিশুর মরদেহ দেখানোর বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে একটি টিনশেডের উন্মুক্ত দোকানঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরে সেখানেও হামলার চেষ্টা করা হলে পুলিশ সদস্যরা বের হয়ে মাদ্রাসার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়দের একটি অংশ তাদের ওপর আবারও হামলা চালায় এবং মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে রাখে।
খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসানসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা সরে যায়। পরে মাদ্রাসা থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘‘ওখানকার জনসাধারণ আইনগত বিষয়টি বুঝতে না পেরে মনে করেছিলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে। এ কারণে তারা এমন আচরণ করেছেন। বিষয়টি দুঃখজনক।’’
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে তদন্তে পুলিশের ত্রুটি ছিল। তাই ওই দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক ক্লোজ করে জেলা পুলিশে রাখা হয়েছে। সার্কেল অফিসারকে সার্বিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের কয়েকজন বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে। তদন্তকাজে বাধা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









