সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে থাকা প্রায় দুই হাজার গাছ কাটা হচ্ছে।
বন বিভাগের অনুমোদন ও ইজারার ভিত্তিতে এসব গাছ কাটা হলেও গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য, ইজারা প্রক্রিয়া, অনুমোদিত সীমানা, গাছের সংখ্যা, কর্তন ও পরিবহন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা মূল্যের গাছ নামমাত্র দামে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশের গাছ কয়েকটি লটে নিলামে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্ট তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের পাশে থাকা ৪৩৪টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। লটটির ইজারামূল্য ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসনাবাদ থেকে ছাতক পর্যন্ত আরও ৭০২টি গাছের একটি লটের কর্তন প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এসব গাছের প্রকৃত সংখ্যা, মূল্য ও কাঠের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত সীমানার বাইরে গাছ কাটা, রাতে গাছ কর্তন ও পরিবহন এবং ইজারার শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। সরেজমিনে তাজপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলোর বাজারমূল্য ইজারামূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
এদিকে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের আরও দুটি লটে ৯২টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দোয়ারাবাজারের কারুলগাঁও-বেতুরা সড়কেও দুটি লটে এসব গাছ কর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চারটি লটেরই সর্বোচ্চ দরদাতা সুনামগঞ্জের সুমন আহমদ হওয়ায় ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গাছগুলো কম দামে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
তকিপুর-তাজপুর লটের ইজারা, গাছের মূল্য, সংখ্যা ও নিলাম প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়ে ২৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি। সংগঠনটি গাছের প্রকৃত মূল্য, সংখ্যা, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রায় ২৫ বছর বয়সী এসব গাছের একেকটির বাজারমূল্য ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। অথচ ইজারামূল্য হিসাব করলে অনেক গাছের দাম পড়েছে মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার সুমন আহমদ বলেন, তিনি চারটি লটের ইজারা পেয়েছেন। তবে রাতে গাছ কাটা, পরিবহন কিংবা ইজারা সীমানার বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ সঠিক নয়।
ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, “কর্তনের শর্ত ভঙ্গ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দোয়ারাবাজারে সড়কের কাজ আগে শেষ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার পেতে দেরি হওয়ায় রাস্তার কাজ আগে সম্পন্ন হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









