হারিয়ে যাচ্ছে জলজ উদ্ভিদ। হাওর এলাকায় আগে যেভাবে জলের সাথে জলজ উদ্ভিদ দেখা যেতো সে দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না বললেই চলে। বিলঝিল ও পুকুরে জলজ উদ্ভিদের ফুল ফুটে হাসির আভা তৈরি করতো। সে ফুল কুড়াতে দেখা যেতো শিশুকিশোরের দল। কিছু ফুল ও উদ্ভিদ খাওয়া যেতো। ৭০ ও ৮০ দশকে বিপুল পরিমানে ভাতের বিকল্প হিশাবে হাওর এলাকার মানুষ শাপলা,শালুক ডেপ ও কুই ফল খেতে ও দেখা যেতো।
গ্রামীণ বাজার গুলোতে ব্যাপক ভাবে ডেপের নাড়ু, শালুক ও পানিফল বিক্রি জন্য উঠতো।বিক্রি ও হতো প্রচুর কিন্তু এখন হাওরাঞ্চলের বাজার গুলোতে এগুলো দেখা যায় না বললেই চলে। কোন কোন এলাকায় শাপলার অস্থিত্ব থাকলে ও সব এলাকা শাপলা চোখে পড়ে না।
আজমিরীগঞ্জের শীবপাশার বিভিন্নি হাওরে কেওড়ালী ও শাপলা ও শালুক ছিল। এ দৃশ্য এখন স্মৃতি। সবচেয়ে বেশি পানিফল ও শিংরা দেখা যেতো উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের কুল্লার চর,কমলগঞ্জের বিলে। কালের আবর্তে পলি পড়ে বিল-ঝিল ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জলজ উদ্ভিদ ও হারিয়ে গেছে। উপজেলার মাহতাবপুরের বিভিন্ন জলাশয়ে কেওড়ালী পাওয়া যেতো এখন মাহতাবপুরে একটি মাত্র বিল বাদে সব বিল অস্থিত্ব হারিয়েছে, জলজ উদ্ভিদ ও হারিয়ে গেছে।
আজমিরীগঞ্জের পাহাড়পুর ও জলসুখার বিভিন্ন হাওরে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত কেউড়ালী ও শাপলা। উপজেলার জোড়বিল, ঢাকুবিল, আইড়াভাঙা বিলে হুগলা নামক একপ্রকার জলজ ঘাস ও উদ্ভিদের বিচরণ ভূমি ছিল।সেখানে প্রচুর ডাহুক, কুঁড়াপাখি, বালিহাস ও সাদা বক বিচরণ করতো হুগলার ফাঁকে ফাঁকে।
উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের কৃপাল নগর গ্রামের আমিন আনসারী জানান, আমরা কেউড়ালী, শাপলা আকুড়াতে বিলঝিলে যেতাম।এখন বয়স নেই,উদ্ভিদ ও নেই।বাপার হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি ও ইত্তেফাকের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মনসুর আহমেদ ইকবাল জানান,অতিরিক্ত কিটনাশকের ব্যবহার,বিলঝিল ভরাট,কারেন্টজালের ব্যবহার ও ইঞ্জিন নৌকার দাপটে হাওরাঞ্চলে জলজ উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে।তিনি আরো জানান, এক সময় আমরা হবিগঞ্জ থেকে নৌকাযোগে বানিয়াচং নিজ বাড়িতে যেতে শাপলাশালুক ও নানান জলজ উদ্ভিদ ঠেলে ও কষ্ট করে যেতে হতো।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জের নবিগঞ্জ, লাখাই, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জে অসংখ্য নাম জানা ও না জানা জলজ উদ্ভিদের উৎসস্থল ছিল কিন্তু আজ এগুলোর অস্থিত্ব নেই বললেই চলে।অদুর ভবিষ্যতে হয়তো জাদুঘরে রেখে দেখাতে হবে নতুন প্রজন্ম কে জলজ উদ্ভিদ।
তিনি মনে করেন জলজ উদ্ভিদ শূন্য হয়ে পড়ায় মাছের খাবার ধ্বংশ হচ্ছে,মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে।তিনি মনে করেন, জনগণ সচেতনেতা ও সরকার যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় তবে অদুর ভবিষ্যতে জলজ উদ্ভিদ দেখার জন্য চিড়িয়াখানায় যেতে হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









