ঝালকাঠির রাজাপুরে অদ্রিজা হাওলাদার (১৪) নামে এক কিশোরী দ্বিতীয় দফায় নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান মেলেনি। মেয়েকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা-মা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চান অদ্রিজার মা কাজল রানী। লিখিত বক্তব্যে তিনি মেয়েকে উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
কাজল রানী ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী দুলাল কৃষ্ণ হাওলাদার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দুই মেয়ের মধ্যে অদ্রিজা ছোট। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া অদ্রিজার বয়স এখন ১৪ বছর।
সংবাদ সম্মেলনে অদ্রিজার মা জানান, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা গ্রামের শান্ত মিস্ত্রির সঙ্গে তার মেয়ের পরিচয় হয়েছিল। শান্ত বিভিন্ন সময় অদ্রিজাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি অদ্রিজা পরিবারকে জানালে শান্তর বড় ভাই সঞ্জয় মিস্ত্রিকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন কাজল রানী।
পরিবারের ভাষ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অদ্রিজা প্রথমবার নিখোঁজ হয়। সে সময় তার বাবা-মা দুজনই কর্মস্থলে ছিলেন। ঘটনার পরদিন রাজাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজাপুর থানায় মামলা করেন অদ্রিজার মা। মামলায় শান্ত মিস্ত্রি (২৩), তার ভাই সঞ্জয় মিস্ত্রিসহ (৪৬) অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।
কাজল রানীর দাবি, ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মনিরুল ইসলাম পরবর্তীতে অদ্রিজাকে উদ্ধার করেন। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে কয়েক মাসের ব্যবধানেই ফের নিখোঁজ হয় অদ্রিজা। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। একই দিন রাজাপুর থানায় জিডি করেন তার মা। (জিডি নং ৩১২)।
পরিবারের অভিযোগ, দ্বিতীয়বার অদ্রিজা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাতেও আগের মামলার আসামি শান্ত মিস্ত্রির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে শান্ত মিস্ত্রিও বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
কাজল রানী আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে অদ্রিজাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে শান্ত মিস্ত্রির সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি শান্তর বড় ভাই সঞ্জয় মিস্ত্রির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন অদ্রিজার মা।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে কাজল রানী বলেন, ‘‘তার একমাত্র চাওয়া মেয়েকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া।’’
অদ্রিজা কোথায় আছে কিংবা কী অবস্থায় আছে, এ বিষয়ে পরিবার কিছুই জানে না। দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
অদ্রিজাকে উদ্ধারে দ্রুত অনুসন্ধান জোরদার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার বাবা-মা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









