কক্সবাজারের টেকনাফে আত্মসমর্পণকারী কথিত ইয়াবা কারবারি ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিয়েছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শনিবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার ‘লেদা একাদশ’ নামের একটি ক্রীড়া সংগঠনের ব্যানারে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। পিকনিকের অংশ হিসেবে তারা ইনানীতে যান। সেখানে একটি সুইমিংপুলে কয়েকজনকে একসঙ্গে ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় কথিত ইয়াবা কারবারি জাহাঙ্গীরকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
তাদের দাবি, ওই আয়োজনে হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ফাহিমসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সমাজ সেবক ছৈয়দ আলম জানান, ভিডিওটি যদি সাম্প্রতিক হয়ে থাকে এবং মাদক কারবারের অভিযোগে আত্মসমর্পণ করা কোনো ব্যক্তি পুনরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর এলাকা টেকনাফে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর টেকনাফের একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাদক, অপহরণ, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের আরও দাবি, জাহাঙ্গীরের পরিবারের কয়েকজন সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার আপন ভাই মোহাম্মদ আলম হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তবে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটা দেখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের মনে হয়েছে। এটা এখনকার ভিডিও নয়। তারপরও আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









