ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দেশ এবং জেলার উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা জনবান্ধব কাজ করতে চাই, এজন্য স্বেচ্ছায় যার যার কাজ নিজ থেকে করতে হবে। আমরা সম্মন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে চাই, আমাদের সরকারের দেওয়া নির্বাচনী ইতশেহার বাস্তবায়ন করতে চাই। এটি করতে পারলে জনগণ খুশি হবে। আর না করলে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিবে, বিরক্ত হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কর্মস্পৃহা প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দৈনিক ১৪ থেকে ১৮ ঘন্টা কাজ করে থাকেন। তিনি যদি এভাবে পারেন তাহলে আমরা কেন পারবো না ? এই প্রশ্নটি যদি নিজের বিবেককে আমরা করি তাহলে আমরা কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করতে পারবো।
বিগত ফ্যাস্টিস সরকারের সময়ের মনোনভাব নিয়ে কাজ না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সময়ে যা হয়েছে, তা আমরা করতে চাই না। ফ্যাসিস্ট আমলের চাকরি আর করা যাবে না। মন থেকে ওইসব বাদ দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করুন, আর যারা কাজ করতে চান না তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। কাজ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। বিগত সরকারের সময়ে দেশটাকে ভুঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। এটাকে সংস্কার করতে হলে, নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আমরা দেখছি আমাদের প্রতিবেশি অনেক দেশ অনেক উন্নতি করছে, কিন্তু আমরা নেতৃত্বের অভাবে পিছিয়ে ছিলাম। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
এ সময় তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সারাদেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এর থেকে পরিত্রানের উপায় খোঁজছি। মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী প্রজন্মকে ভালো রাখতে হলে মাদককে ছাড় দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জুয়া ও চোরাচালান বন্ধ করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে কাজ করতে হবে।
শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ থেকে বিদায় হয়েছে, তা থেকে আমরা যদি শিক্ষা না নেই তাহলে পরিনতি খারাপ হবে সবার। তাই বিগত সময়ে যা হয়েছে তা আমরা কেউ কোনভাবেই করতে চাই না।

দেশে সার সংকট নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। স্থানীয়ভাবেও সারের কোন সঙ্কট নেই। তবে শম্ভুগঞ্জ সার গুদামটি সংস্কার করতে দাবি জানানো হয়েছে। আমরা দ্রুত এটি সংস্কারের চেষ্টা করবো।
এর মধ্যে সুসংবাদ হচ্ছে যে, অচিরেই সার ডিলার নিয়োগ হবে, টিসিবি, ওএমএসএস এর ডিলার নিযোগ হবে। এবং এ বছরের শেষের দিকে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা হচ্ছে খুব দ্রুত। এর মধ্যে দশ হাজার যুবককে ফ্রী পাঠানো যাবে, যারা অসহায় এবং নিগৃহীত। আর বাকি তিন লক্ষ পাঠানো হবে অল্প খরচ দিয়ে। আগে পুলিশে চাকরি জন্য দশ লক্ষ টাকা লাগতো এখন সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে, এখন পুলিশের চাকরিতে টাকা লাগে না।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমাদের ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। এই ঝামেলা আমরা বহন করছি কিন্তু আমরা এটা করি নাই। বিরোধীদল মাঝে মাঝেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা বলেন গ্যাস দিতে পারেন না, বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, আপনারা সরে যান। এরকম আন্দোলন করেন সমস্যা নেই কিন্তু আমরা সরে গেলে কী আপনারা এটার সামাধান দিতে পারবেন, পারবেন না। এটার জন্য সময় দরকার।
সভায় ময়মনসিংহে এলজিইডির উন্নয়ন কাজগুলো ফেলে রাখার ঘটনায় সংশিষ্ট ৩০টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং নেত্রকোনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আমি খুশি হয়েছি। সারাদেশের সঙ্গে এই জেলাগুলোর উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো এমপি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
সভায় জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সদও আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের এমপি প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহহেল মাজেদ বাবু, গফরগাঁওয়ের এমপি আকতারুজ্জামান বাচ্চু, ফুলবাড়ীয়ার এমপি মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী প্রমূখ।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোহাম্মদ গোলাম মাসুম প্রধান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা যৌথভাবে সভাটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের পরিচালক বায়েজিদ, র্যাব কর্মকর্তা শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: আসাদুজ্জামানসহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









