কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা হাজতখানায় নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে মো. ইকবাল শেখ গারো (৪০) নামের এক আসামি আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে হাজতে থাকা অপর এক আসামির চিৎকার ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে থানা হাজতখানার ভেতরের এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পুরো ঘটনাটি থানার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
আটক ইকবাল শেখ উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার মৃত ইসলাম শেখের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৬ জুন সদকী ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আলতাফ ফকিরের ছেলে বিপ্লব হোসেনের খামার থেকে একটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গরু চুরি করেন ইকবাল। পরবর্তীতে সেই গরু ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেনা শোধ ও বাবার কুলখানি সম্পন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। সোমবার ভোরে জিলাপীতলা এলাকা থেকে ছয়টি মুরগি চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখে।
থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাজতখানায় অন্য এক আসামি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ইকবাল প্রথমে নিজের পরনের লুঙ্গিটি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে তা দেওয়ালের গ্রিলে বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েন। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পুনরায় চেষ্টা চালালে ঘুম ভেঙে যাওয়া অপর আসামি চিৎকার দিয়ে উঠে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা ভেতরে ছুটে এসে ইকবালকে উদ্ধার করেন।
পুলিশ হেফাজতে আসামি ইকবাল শেখ জানান, পুলিশ ধরে নিয়ে আসায় তিনি আতঙ্কে ও হতাশায় আত্মহত্যা করে মরে যেতে চেয়েছিলেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাজতখানায় লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালালেও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় আসামিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









