ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা, পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি জোরালোভাবে উঠেছে। একই সঙ্গে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরেন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সভায় ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল, রাজবাড়ী-২ আসনের হারুন অর রশিদ, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান, গোপালগঞ্জ-২ আসনের কে এম বাবর ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জুলাই সনদের সিদ্ধান্তের আলোকে দ্রুত ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৃহত্তর ফরিদপুরের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাদক নির্মূলে কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদক নির্মূল করতে হবে।”
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, “আমাদের স্থানীয় পযায়ে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে লিডারশিপ নিয়ে ঐক্যবদ্ধতার অভাব।” এই ঐক্যবদ্ধতার অভাবে উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে প্রতিটি সেক্টরে ভারসাম্য রেখে কাজ করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু বলেন, “ফরিদপুর অনেক পুরনো জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুরের সন্তান হিসেবে এ অঞ্চলের উন্নয়নকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। ফরিদপুর শহরের বর্তমান অবস্থা দেখে ৫০ বছর আগের শহরের কথা মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এই ফরিদপুরকে আমরা বদলে দেব। বৃহত্তর ফরিদপুরকে মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করবো।”
হুইপ বলেন, “জনগণের নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার শূন্য অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব নিয়েছে। এরপরও মানুষের চাহিদা পূরণে সরকার ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









